আমাদের পাঠাগার
আমাদের গল্পকথা


সমাজ উন্নয়নে পাঠাগারের ভূমিকা
পাঠাগার বা গ্রন্থাগার সাধারণত তিন প্রকারের হয়ে থাকে। যথা – ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সর্বজনীন। সাহিত্য চর্চার জন্য কল্পনাশক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ব্যাপক অধ্যয়ন ও অনুশীলন। প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে বলেন, সাহিত্য চর্চা শিক্ষার প্রধান অঙ্গ এবং সাহিত্য চর্চার জন্য পাঠাগার অপরিহার্য। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘নিজের অস্তিত্ব ও স্বজাতির বিশেষত্ব হারানো মনুষ্যত্বের মস্ত অবমাননা, অবশ্য নিজের অস্তিত্ব ও স্বজাতির বিশেষত্ব তথা ইতিহাস-ঐতিহ্য অনুসন্ধান করা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি।
সত্য
সত্য, জ্ঞান, সেবা এবং সুস্থ ও সভ্য সমাজ গঠনে গ্রন্থ পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। পৃথিবীতে সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, আলোকিত জীবন গঠনে বইয়ের ভূমিকা খুবই ব্যাপক এবং তাৎপর্যপূর্ণ। পাঠাভ্যাস জাতিকে মেধা ও মননশীল হিসেবে গড়ে তুলতে এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে থাকে। সহনশীল ও মানবিক সমাজ গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। তাই আসুন, ‘পড়লে বই আলোকিত হই’ এই স্স্নোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি পাঠমুখী পরিবেশ ও সুশীল সমাজ গঠনে সবাই মনোযোগী হই। সেদিন বেশি দূরে নয়, পাঠমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করেই আমরা বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে মর্যাদার আসন লাভে সক্ষম হব।
জ্ঞান
জ্ঞানার্জন করতে হলে ছাত্রজীবন থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক গ্রামগঞ্জে যদি একটি করে পাঠাগার গড়ে তোলা যেত এবং প্রতি বছর বই কেনার ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির বই পড়ার সুযোগ হতো। ফলে জ্ঞানের আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত। এ জন্য সারাদেশে স্কুল-কলেজের বার্ষিক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে বই প্রদান করতে হবে। তাহলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি হবে এবং নিজেদের মেধা-মননের বিকাশ হতো। জীবনকে সফলতার আলোয় আলোকিত করার প্রধান উপায় হচ্ছে বই। বই পড়েই জ্ঞানার্জন করতে হবে।
সেবা
সমাজের উন্নয়নের হিসেবে সেবা প্রদান এবং উদারতার ক্ষেত্রে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে পাঠাগারের অবদান অনেক। একজন মানুষ যে পেশায়ই দক্ষ হোক না কেন তার পেশাদারিত্বে উৎকর্ষতা অর্জনের জন্য বারবার বইয়ের কাছে ফিরে আসতে হয়। কারণ জ্ঞানের সূচনা সেখান থেকে এবং সে জ্ঞানকে সামগ্রিকভাবে কাজে লাগানোর দক্ষতা মানুষ বই পড়ে পেয়ে থাকে। মানুষের মননশীল, চিন্তাশীল, সৃষ্টিশীল চিন্তার যাবতীয় সূচনার বিস্ফোরণ একমাত্র বইয়ের মাধ্যমে হতে পারে। একজন মানুষ যে পেশায়ই দক্ষ হোক না কেন তার পেশাদারিত্বে উৎকর্ষতা ও সত্য জানার জন্য বারবার বইয়ের কাছে ফিরে আসতে হয়।